Home / জনসচেতনতা / যে উপদেশ দেওয়ার চেয়ে চুপ থাকা ভালো

যে উপদেশ দেওয়ার চেয়ে চুপ থাকা ভালো

কিছু মানুষের সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচয় আছে যারা জীবনে পুরোপুরি সফল। তাদের দারুণ ক্যারিয়ার, সুখী দাম্পত্যজীবন, ফুটফুটে ছেলে-মেয়ে নিয়ে একটা উপভোগ্য জীবন কাটাচ্ছেন। আপনি নিজেও এমন হতে পারেন। অথবা এমন জীবন পেতে আপনার উপদেশ ও পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যকে ভালো পরামর্শ দিতে অনেকেই বিশেষজ্ঞ বনে যান। কিন্তু পরিস্থিতিতে অতি সাধারণ কিছু পরামর্শ বাক্য আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। বিশেষজ্ঞের মতে, কিছু কথা না বলাই ভালো। এমনকি এ ক্ষেত্রে কিছুই না বলা অনেক ইতিবাচক। জেনে নিন এমনই কিছু নিকৃষ্ট উপদেশবাণীর কথা।

১. ‘চাকরিটা ছেড়ে দাও এবং যা ভালো মনে হয় করো’ : যাকে বলছেন তার কাছে খুব ভালো লাগবে। হয়তো একটা মানুষ তার ক্যারিয়ার নিয়ে মারাত্মক পেরেশানিতে রয়েছেন। এ থেকে মুক্তি মিললে তার জন্যে ভালো। কিন্তু চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভালো ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন না। অথবা তার কিছু দায়িত্বশীলতাও রয়েছে। বহু মানুষ আছেন যাদের নিজের চাকরিটা মোটেও ভালো লাগে না। কিন্তু নিজের, পরিবারের এবং সমাজে বেঁচে থাকতে অর্থের জোগান দিতেই হয়। এটা ভালো না লাগলে স্রেফ ছেড়ে দিয়ে যা মন চায় তা করলে জীবন চলবে না। তাই যাকে বলছেন, তাকে আদতে সবচেয়ে বাজে পরামর্শটাই দিচ্ছেন।

২. ‘সে আসবে, কেবল ধৈর্য্য ধরে থাকো’ : প্রিয় বান্ধবীর একাকী অসহ্য মুহূর্তে আপনি কিছু স্বান্তনাবাক্য নিয়ে এগিয়ে যান ঠিকই। বিশেষ করে তিনি যখন প্রেমঘটিত সমস্যায় রয়েছেন বা তার প্রেমিকের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন, তখন সত্যিকার অর্থেই সদুপদেশ দেওয়াটা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। স্বান্তনা দিতে গিয়ে তাকে আশাব্যঞ্জক কিছু বলতে পারেন। কিন্তু মিথ্যা আশা দিতে এমন কথা বলত যাবেন না যা কিনা তার সময়টা কেবল নষ্ট করবে। বরং চুপ থাকুন, কিন্তু না জেনে তার মনটাকে মিথ্যা আশায় আশাবাদী করবেন না।

৩. ‘সন্তান হলে তোমার অন্যরকম অনুভূতি আসবে’ : বাবা-মা হওয়ার পর মানুষ নতুন জীবন ও পরিচয় লাভ করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়, মেয়েরা মা হলে বুঝতে পারে জীবনের মানে। এটা আসলে ভুল কথা। এমন অনেক নারীই আছেন যারা মাতৃত্ব লাভ করতে চান না। তারা ভাগ্নে-ভাতিজিদের দারুণ আদর করেন। কিন্তু নিজের সন্তান পেতে উদগ্রীব হয়ে থাকেন না। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা তাদের এমন এক মানসিকতা যাকে মোটেও ভুল বলা যায় না। সন্তানের মা হওয়ার চেয়ে আরো অনেক বিষয় তার কাছে আরো জরুরি বিবেচিত হতে পারে। কাজেই এ ধরনের নারীকে বলতে যাবেন না যে, মা হলে তার চাওয়া-পাওয়া বদলে যাবে।

৪. ‘সন্তান না নেওয়া স্বার্থপরতা’ : আপনি কি মনে করেন যে সন্তানের বাবা-মায়েরা স্বার্থপর হন না? সন্তান নেওয়া বা না নেওয়া মানুষের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার বিষয়। এখানে স্বার্থপরতার কোনো বিষয় নেই। স্বার্থপরতা এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য সব মানুষের মধ্যেই কম-বেশি রয়েছে। অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের জন্যে কেউ যদি সন্তান না নিতে চান তবে তাকে স্বার্থপরতা বলা যায় না।

৫. ‘বিয়ে-সন্তান-সমাজ নিয়ে তোমার মানসিকতা বদলাবে’ : যখন সব যুক্তি ফুরিয়ে যায়, তখন উপদেশ দাতারা শেষ অস্ত্রটি প্রয়োগ করেন। জীবনে অনেক বিষয়ের সঙ্গে বহু মানুষ মানিয়ে নিতে পারেন না। এটা প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থার বিপরীতে যেতে পারে। কিন্তু তাকে খারাপ বলে মনে করা যায় না। এ ক্ষেত্রে একটা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু মানুষটি বুঝবেন না বা তার বিশ্বাস বদলে যাবে না- এমন বুঝতে পারলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করবেন না। এ ক্ষেত্রে তার মতামত ও চিন্তাধারার প্রতি সম্মান দেখান। প্রয়োজনে চুপ থাকুন, কিন্তু বলতে যাবেন না যে ‘এসব সম্পর্কে তোমার সিদ্ধান্ত ও চিন্তা-ভাবনা বদলে যাবে’। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

তথ্য সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য