Home / বিবিধ / ওজন বৃদ্ধির ৪টি ‘বিদঘুটে’ কারণ

ওজন বৃদ্ধির ৪টি ‘বিদঘুটে’ কারণ

ওজন বৃদ্ধি সব স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। ব্যায়াম বা খাদ্যতালিকা মেনে চলেও অনেকের ওজন বেড়ে যায়। এখানে বিশেষজ্ঞরা ৪টি অদ্ভুত কারণের কথা বলেছেন। এর কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এগুলোকে ওজন বৃদ্ধির বেশ বিদঘুটে কারণ বলে তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. প্রেমিক-প্রেমিকার কলহ : সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ দুজনের মধ্যেই বিশেষ হরমোনের ক্ষরণ ঘটায়। এতে ক্ষুধা বেড়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার-এর গবেষকরা ৪৩ জোড়া জুটির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। প্রধান গবেষক লিসা জারেমকা জানান, এসব বিতণ্ডায় ওই বিশেষ হরমোনের নিঃসরণে ওজন বাড়ে।

২. আয়রন গ্রহণ : নতুন আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, লাল মাংসের আয়রন ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। এতে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে এবং খাওয়ার ইচ্ছা আরো বৃদ্ধি পায়। সেন্টার অন ডায়াবেটিসের পরিচালক ডোনাল্ড ম্যাকক্লেইন জানান, ইঁদুরকে উচ্চ ও নিম্ন মাত্রার আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে দেওয়া হয়। দেখা গেছে, উচ্চামাত্রার আয়রন যে সব ইঁদুর খেয়েছে তাদের দেহে লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমে গেছে। এতে তাদের ক্ষুধা অনেক বেড়ে গেছে। আর ক্ষুধা যত বেশি খাবারও তত বেশি খাবে সবাই।

৩. জিনকে দোষ দেওয়া : একেও অদ্ভুত কারণ হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক মাইকেল সি প্যারেন্ট। একদিন হয়তো ওজন বৃদ্ধির পেছনে দায়ী জিনগুলোকে শনাক্ত করবেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু যারা বাড়তি ওজনের জন্যে জিনগত সমস্যা দায়ী বলে মনে করেন, তাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে যাদের বিশ্বাস যত অটুট তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা বেশি। তাই এতে মনোযোগ দেবেন না।

৪. বিবর্তন : দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ওবেসিটি রিসার্চ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, মানুষের মোটা হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগেও মানুষ এমন আশঙ্কাজনক হারে স্থূলকায় হতো না। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের মাঝে মোটা হওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩৬ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য দেন গবেষকরা। বলা হয়, ১৯৭১ সালে মানুষ যে হারে মোটা হতো, ২০০৮ সালে তা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শক্তি গ্রহণ এবং তা খরচের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য