মূল পাতা / জনসচেতনতা / গোয়েন্দা নজরদারিতে আপনিও

গোয়েন্দা নজরদারিতে আপনিও

নিজের অজান্তেই আপনি গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিই আপনার ওপর গোয়েন্দাগিরি করছে। আপনি যেখানে যাচ্ছেন আপনার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নেটওর্য়াকের আওতায় থাকে। ওই এলাকায় অবস্থানকালে আপনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, কী বিষয়ে কথা বললেন, কত সময় কথা বললেন সব কিছুই সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানির কাছে সংরক্ষিত থাকে। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহারে আপনাকে সচেতন হতে হবে।

মোবাইল ফোনে এমন কোন কথা বলা উচিৎ নয়, যার জন্য আপনাকে আইনি ঝামেলায় পড়তে হয়। ধরুন আপনি এখন রাজধানীর মতিঝিল এলাকার শাপলা চত্ত্বরে অবস্থান করছে। এ সময় ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু আপনাকে ফোন করলো। কি জন্য শাপলা চত্ত্বরে এসেছেন জিজ্ঞাসা করতেই আপনি দুষ্টুমি করে বললেন- বন্ধু,একজনকে মারতে এখানে এসেছি। ঠিক তার কিছুক্ষণ পর সেখানে দুর্বৃত্তদের হাতে একজন প্রাণ হারালেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পারলেন না। তখন তারা ঘটনার সময় ওই স্থানে অবস্থান করা ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ফোন কোম্পানির কাছে আবেদন করবে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মোবাইল ফোন টাওয়ারের অধীনে থাকা ওই সময়ের ভয়েস কল যাচাই-বাছাই করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এই কল যাচাইয়ে বিপদে পড়ে যেতে পারেন আপনি। কোন অপরাধ না করলেও বন্ধুর কাছে দুষ্টুমি করে বলা কথাটার কারণেই আপনি আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর মোবাইল ফোন একদিকে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে, অন্যদিকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মানুষ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করছে। মোবাইল ফোনে অপরাধ করার পর সেই সিমটি ফেলে দেওয়া হচ্ছে বা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও পার পাচ্ছে না অপরাধীরা। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা এখন খুব কঠিন কাজ নয়।

যে এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে নির্ধারিত সে এলাকায় মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমেই ঘটনার সময়ে থাকা মোবাইল ফোনগুলো চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এরপর এসব মোবাইল নম্বরগুলো সংগ্রহ করে তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব নম্বর থেকে সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করে চলে তদন্তের কাজ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর প্রায় সব কটি ঘটনারই ক্লু উদঘাটন হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। এর মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম। খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, চুরিসহ গুরুতর সব অপরাধের তদন্তকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এ সব মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে মোবাইল ফোন ট্র্যাকার। সন্দেহভাজন আসামি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মোবাইল ফোন শনাক্ত করার পর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকে। কেউ মোবাইল ফোন থেকে সিম পরিবর্তন করলেও ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর দিয়ে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা সম্ভব।

দীর্ঘদিন সন্দেহভাজন মোবাইল ফোনটি ব্যবহার বন্ধ থাকলে অপরাধীকে খুঁজে পেতে সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নিকটাত্মীয় কিংবা বন্ধুদের মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারি চলে। দীর্ঘদিন পরে হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিকটাত্মীয় কিংবা বন্ধুদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা মাত্রই তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপরই চলে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করার কাজ। ভাইবার, ট্যাঙ্গো, লাইন, স্কাইপেসহ মোবাইল ফোনের অ্যাপসই আর নির্ঝঞ্ঝাট, নিরুপদ্রব নেই। ইন্টারনেট ফোন ছাড়াও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোবাইল ফোন গ্রাহকদের কথোপকথনও রেকর্ড করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো টেলিকম সেক্টরেই এখন গোয়েন্দাদের পদচারণা। এতদিন ধারণা ছিল, টেলিফোন গ্রাহকের ভয়েস ও ডাটা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইন্টারনেট ফোনের কথোপকথনও সহজেই রেকর্ড করে নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এ কারণে মোবাইল টেলিফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তথ্য সুত্রঃ আমার বাংলাদেশ

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পছন্দের আরেকটি লেখা

টেক্সট করার সময়ে এই চারটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখুন

টেক্সট করি আপনি আমি সবাই। সময় বাঁচাতে বা বেকায়দা কোন পরিস্থিতিতে কল না দিয়ে দ্রুত …