মূল পাতা / বিবিধ / লেখাটি সিরিয়াস, কিন্তু ছেলেদের জন্যে নয়

লেখাটি সিরিয়াস, কিন্তু ছেলেদের জন্যে নয়

আমি কোন ডাক্তার নই…তাই আমার লেখাটি টোটকা ব্যবস্হা হিসেবে মেয়েরা একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। তারপর যদি মনে ধরে তাহলে একটু ট্রাই করলেও আপত্তি নেই। জীবনে মা হওয়া না হওয়া বিষয়টি পুরোই আল্লাহ ভরসা– কপালে থাকলে হবে, না থাকলে হবে না। তারপরও চেষ্টা করে যাবেন যেন কখনও মনে না হয় ঐ বিষয়টি বাদ রয়ে গিয়েছিল। মা হতে চাইলে মেয়েদের ওজন, পুষ্টিকর খাবার, প্রাথমিক স্বাস্হ্য সম্পর্কিত কিছু বিষয় ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে চেকআপ করিয়ে নেয়া ভাল।

রক্তের Rh factor একটি বিষয় রয়েছে যেটি চেক করা খুব দরকার–

কেননা এটি গর্ভপাত ঘটিয়ে দিতে পারে।

তবে বিষয়টি জানা থাকলে ইনজেকশন দিয়েই সমস্যাটির সমাধান করা যায়।

তাছাড়া নানাধরনের এই টীকা সেই টীকার বিষয়গুলিও নিশ্চিতকরণ জরুরী।

শুধু তা নয়, শরীরটিকে বাচ্চা বহনের উপযুক্ত করতে Prenatal Multi vitamins and ফলিক এসিডও প্রয়োজনীয়।

আরও অনেক ছোট, খাটো এবং বড় বড় বিষয় রয়েছে।

তবে যত যাই করুন না কেন মেয়েদের একা একা বাচ্চা হবে না।

বিয়ে করে একজন ছেলে পার্টনার পাওয়া চাই–না জুটলে, তালবাহানা ছাড়া পথ নেই।

ওদিকে কোন কোন বয়স্ক ছেলে আছে যারা ঘরের কাজ করাতে বউ চায় কিন্তু বাচ্চা চায় না অথচ বিয়ের আগে কথাটি গোপণ রাখে….তেমন ইবলিশের পাল্লায় পরলে সারে-সর্বনাশ– ঐ চক্কর থেকে বেরুতে বেরুতে কম্ম শেষ।

তাই বিয়ে করার আগে মানুষটিকে জানাও জরুরি।

নাটক-সিনেমায় দুটো ফুল কাছাকাছি এলে অথবা বাতি নিভলে পরক্ষণেই ওয়াক ওয়াক করে পেট ফুলে ওঠে –আসলে বাচ্চা হবার বিষয়টি ঠিক তত সহজ নয়।

বাচ্চা হতে হলে ‘টাইমিং’ অনেক বড় ব্যাপার–

প্রতিমাসে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু থেকে আনুমানিক ১৪ দিনের দিন একটি বা দুটি এগ রিলিজ হয়– ঐ এগটির সাথেই স্পার্মের মিলন হলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা থাকে, নইলে নয় l

এগ রিলিজ হবার পর মাএ ২৪ ঘণ্টাই এগটি ভাল থাকে তাই বাচ্চা হতে হলে ঐ ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এগের সাথে স্পার্ম মিলিত হতে হবে। নইলে ২৪ ঘণ্টা পর এগটি নষ্ট হয়ে যাবে এবং বডিটি আবার পরবর্তী মাসে জন্যে বাচ্চা ধারনের প্রস্তুতি নিতে থাকবে।

গর্ভবতী না হলে ovulation এর ১৪ দিন পর আবার পিরিয়ড শুরু হয়। আর গর্ভবতী হলে ফার্টিলাইজড এগটি ইউটেরাসে এসে বাসা বাঁধে। তাই ডিম নষ্ট বা বপন হতে ঐ ১৪ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়।

খুব কম সংখ্যক মেয়েরই ovulation থেকে পিরিয়ডের সময় ১৪ দিনের কম হতে দেখা যায়।

এমন হলে হয়ত ডাক্তারের সাহায্য দরকার হতে পারে– অনেক সময় হরমোণ, ব্যায়াম এবং খাবার দিয়ে এটিকে প্রভাবিত করা যায়।

এগ রিলিজ হওয়াকে বলে ovulation।

Ovulation এর আগে fertile পিরিয়ড শুরু হয়–

তখন স্পার্ম মেয়েদের শরীরের মধ্যে গিয়ে তিন থেকে পাঁচদিন বেঁচে থাকতে পারে।

Fertile পিরিয়ডে মেয়েদের শরীর থেকে পিরিয়ড পথটিতে এক ধরনের রঙবিহীন তরল পদার্থের অতিরিক্ত সিকরেশন ঘটে যেটি স্পার্মকে বাঁচিয়ে রাখে।

বেশীরভাগ মেয়েদেরই সাধারণত ২৮ দিন পর পর পিরিয়ড হবার কথা। একে পিরিয়ডের সাইকেল বলা হয়। তবে কারো কারো পিরিয়ডের সাইকেল ২৮ দিনের বেশী বা কম হতে পারে। পিরিয়ডের ১ম দিনটি সাইকেলের প্রথম দিন হিসেবে ধরা হয় এবং পরবর্তী পিরিয়ড শুরুর আগের দিনটি পর্যন্ত দিনটি ধরে প্রতিমাসের সাইকেলটি মোট কতদিনের তা হিসেব করা হয়।।

যাদের নিয়মিত ২৮ দিন পর পর পিরিয়ড হয় তাদের পিরিয়ডের প্রথম দিনটি ১ তারিখ হলে ovulation হয়তো হবে ১৪ তারিখে।

তাই ঐ মাসের ১২/ ১৩/ ১৪ তে মিলন হলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা বেশী–অর্থাৎ পিরিয়ড শুরু থেকে ১২, ১৩, বা ১৪ দিনের দিন বাচ্চা হবার সম্ভাবনা বেশী।

যাদের পিরিয়ড কিছুটা অনিয়মিত বা সাইকেলটি ২৮ দিনের চেয়ে কম বা বেশী তারা দুতিন মাস ধরে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে করে পিরিয়ড এবং শরীরের ধরণটি জেনে নিতে পারেন।

যেহেতু সবারই প্রায় ovulation এর পর থেকে পিরিয়ড হতে ১৪ দিন সময় লাগে তাই পরবর্তী মাসের পিরিয়ডের দিনটি থেকে ১৪ দিন বিয়োগ করলেই ovulation এর দিনটি আন্দাজ করা সম্ভব।

ovulation এর তিনচার দিন আগ দিয়ে বেশীরভাগ মেয়েদের বডিতেই কিছু পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়।

এই সময় হরমোনাল চেঞ্জ হয় তাই পিরিয়ডের পথটিতে তরল জিকা গাছের আঠা / পরিস্কার সর্দি / ডিমের সাদা অংশের মত তরল পদার্থের অতিরিক্ত secretion লক্ষ্যণীয়, যেটি স্পার্মকে বাঁচিয়ে রাখে এবং সাঁতার কেটে এগের কাছে যেতে সাহায্য করে।

ঐ সময়টিতে হরমোনার পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের ব্রেস্টও কিছুটা সেনসেটিভ হতে পারে–একটু ছোঁয়াতেই ব্যথা ব্যথা অনুভূত হয়। সাথে মাথা এবং গা-হাত-পাও একটু ব্যথা হতে পারে…তাছাড়া এগ রিলিজ হয়ে যখন Fallopian টিউব দিয়ে চলতে থাকে তখন তলপেটের বাঁদিকে অথবা ডানদিকে ব্যথা ব্যথাও অনুভূত হয় কেননা শুধু এক দিকের টিউব দিয়েই এগটি রিলিজ হয় চলতে থাকে। তাই ঐ দিকটিতেই ব্যথা হয়।

কারও কারও আবার রাগও ওঠানামা করে।

ঐ সময়টিতেই স্পার্ম দরকার এবং মাতৃত্বের লক্ষ্যে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেয়েরাও ঐ সময়টিতে পুরুষ সঙ্গ পেতে একটু বেশীই উৎসাহী থাকে…। তখন পিরিয়ড পথটিতে যে কোন ভাবেই স্পার্ম গেলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

যৌন মিলন যদি ovulation এর দুতিনদিন আগে হয় তাহলে সাধারণত মেয়ে বাচ্চা হয়। তবে মিলন যদি ovulation দিন বা just ovulation এর আগের দিনটিতে হয়, তাহলে ছেলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা থাকে–কেননা ছেলে স্পার্ম সাঁতার কাটে দ্রুত কিন্তু বাঁচে কম সময়। ওদিকে মেয়ে স্পার্ম আস্তে সাঁতার কাটে কিন্তু বাঁচে দীর্ঘ সময়।

বাচ্চা হবার প্রধান শর্ত হলো টেনশন ফ্রি হওয়া এবং সঙ্গ উপভোগ করা– এটি muscle relaxed রাখে, ফলে স্পার্ম সহজে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় (cervix…) পৌঁছুতে পারে। তাই মিলনটি যত বেশী মধুর হবে, ততই বেশী বাচ্চা হবার সম্ভাবনা বাড়বে।

নীচের লক্ষণ গুলি বুঝতে পারা জরুরিঃ

পিরিয়ডের শুরু = ব্লিডিং ( ৩-৭ দিন) =তখন কোন বাচ্চা হবে না

পিরিয়ডের শেষে দুইতিনদিন পিরিয়ডের পথটি কিছুটা ড্রাই থাকে = তখনও কোন বাচ্চা হবে না।

পিরিয়ডের পথটি ড্রাই থাকার কিছুদিন পর ঐ পথটিতে ডিমের সাদা রঙহীন অংশের মত বা পাতলা সর্দির মত বা পাতলা জিকার আঠার মত অতিরিক্ত তরল সিকরেশন হতে থাকবে= এই সময়টিতেই বাচ্চা হবার সম্ভাবনা তীব্র হয়।

Ovulation হয়ে যাবার পর পিরিয়ডের পথটিতে মুখের ক্রীমের মত সাদা রঙের ঘন পেষ্ট জাতীয় সিকরেশন হয়– তখন বরবধূঁর মিলনে আর বাচ্চা হবে না। কেননা এই সিকরেশনটি জার্ম কিল করে cervix কে ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে।

Ovulation এর লক্ষণগুলো বুঝতে না পারলে pregnancy test kits এর মত ovulation test kits ও কিনতে পাওয়া যায় যেটি ২৪ ঘন্টা আগেই ovulation এর সময়টি বলে দেয়–এটি অনেক কার্যকরি। কিছু কিছু ফ্রি ওয়েবসাইট আছে যেখানে পিরিয়ডের ১ম দিন এবং কতদিন পর পর পিরিয়ড হয় এই দুটি তথ্য দিলে তারা fertile ডে সহ আনুমানিক ovulation এর দিনটি চার্ট করে দেয়। তখন শরীরের উপসর্গ গুলো লক্ষ্য করলেও ovulation ট্রাক করতে সহজ হয়।

অনেক সময় বাচ্চা হওয়াবার টেনশনে, অথবা হঠাৎ ব্যায়াম শুরু করা, বা খাবারের ধরনের পরিবর্তনেও ovulation আগে পরে হতে পারে।

শোনা যায় ovulation এর আগের দিনগুলোতে মেয়েরা বাতাবীলেবু এবং রবিটাসিন খেলে স্পার্ম সহায়ক সিকরেশন বাড়ে –তবে ovulation এর দিন থেকে এগুলো খাওয়া বাদ দেয়া অতি জরুরি–

নইলে implantation এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ছেলেদের জন্যে খেঁজুর, এবং কোয়েল এগসহ নানাজাতীয় ফল উপকারী। তাছাড়া ডাইবেটিস এবং হাইব্লাড প্রেশারও কন্ট্রোলে রাখা দরকার–রিসার্চ করলেই আরও অনেক অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

মেয়েদের জন্যে মিষ্টি আলু, নাটস্, হোলগ্রেইন, শাকসব্জি, প্রোটিন …দরকারী।

অনেক সময় গর্ভধারণে ব্যর্থ হলে হরমোনাল চেকআপ, ইউটেরাসের গঠন, এবং ডিএন্ডসি চেক করিয়ে নেবার পরামর্শ দেয়া হয়। কখনও কখনও ভাবি, সাতঘাটের পানি খেয়েও যেখানে হয় হয় করেও এক বা্চ্চাই হয় না, সেখানে রাজনের মত কত বাচ্চাকেই না মানুষ হাসতে হাসতে মেরে ফেলে –কী করে ?

তথ্য সুত্রঃ উইমেন চ্যাপ্টার

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পছন্দের আরেকটি লেখা

গাড়ি চালিয়ে আসেন ভিক্ষা করতে, মাসে উপার্জন ১ লাখ

উপার্জন বাড়ানোর জন্য সবাই যখন চেষ্টা হচ্ছে‚ নিত্যনতুন উপায় বের করছেন, তখন ভিখারিই বা পিছিয়ে …