মূল পাতা / বিবিধ / ‘বেশ্যা নয়, সেক্স ওয়ার্কার বলুন! প্লিজ’

‘বেশ্যা নয়, সেক্স ওয়ার্কার বলুন! প্লিজ’

ক্যামেরার শাটারের উত্তরে এথানে ধেয়ে আসে অ্যামোনিয়া গোলা জল। কারণ ভালোবাসা পেতে এখানে লাগে পয়সা। তবু ছবি হল। আমস্টারডামের লাল আলোতে মারিসকা মাজুর-এর মুখোমুখি পীযুষ আশ।
রাত পৌনে দশটা। যদিও ফটফটে আলো। ক্লান্ত যতোই লাগুক, ঝোলা থেকে ল্যাপটপ বার করে চালাতে গেলাম, জরুরি একটা মেল আসার কথা, কিন্তু চালানো হল না। জানলার বাইরে লন। গাছের বাউন্ডারি। আর তারপর অনেকটা জায়গা জুড়ে পর পর পাথরের স্ল্যাব। ব্যাপারটা সুবিধার লাগলো না। মোবাইলে লোকেশন সার্চ করে দেখলাম… যা ভাবছি তাই। কবরস্থান। বিদেশবিভূইয়ে এ কী গেরো বাবা! মনটা খচখচ করছিল। গেস্ট হাউসের দোতলা থেকে নেমে একটু সরেজমিনে না-দেখলেই নয়। এমনিতেই আসার পথে রাস্তায় লোক দেখেছি বলে মনে পড়ছে না, আসোয়াস্তি হওয়ারই কথা। পিছনে সোজা লনে নামার একটা ছোট্ট সিঁড়ি ছিলো। লনে পা রাখতেই একটি নারীকণ্ঠ… -হাই চমকে উঠলাম! এমনিতে প্রতি-সৌজন্য দেখানো উচিত। কিন্তু কলকাতা-দিল্লি-মস্কো-আমস্টারডাম… তিনবার উড়ান বদলে, তাপ্পর ট্রেন ঠেঙিয়ে প্রায় পাণ্ডববর্জিত আস্তানায় এসে, এবং পাশে সেমেটরি দেখে মেজাজ গুমোট হয়ে ছিল, তাই সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমাদের এই গেস্ট হাউজের একদিকে মনে হচ্ছে কবরস্থান, তাই কী?’ -একদিকে নয়, দু’দিকে। ওই পাশেও রয়েছে। ওটা আরও বড়ো। এসো না দেখাচ্ছি।
গেলাম, দেখলাম। কবরস্থানই বটে। ফুল, স্তব্ধতা, ছোট্ট একটা কাঠের বাড়ি, মাঝেমধ্যে অজানা একটা পাখির ডাক। আমাদের পার্কস্ট্রিটেও রাস্তার দু’ধারে দু’টো গোরস্থান। এখানেও তাই, তবু… পথপ্রদর্শিকার নাম এরিঙ্কা। হাইস্কুলের পাঠ শেষ করে টিচার ট্রেনিং নিচ্ছে। আর পকেট মানির জন্য গেস্ট হাউজে ডোমেস্টিক হেল্প। বাড়িতে বসে থাকার উপায় নেই। বছর দেড়েক আগে বাবা-মায়ের ডিভোর্স। ছোট একটা বোন আছে, বয়ফ্রেন্ড আর্মিতে। এরিঙ্কাদের জন্য চাকরি জোটানো বেশ কঠিন।
-জানো আমার হাইস্কুলের একটা মেয়ে সপ্তাহে তিন দিন ‘ডা ভালেন’ যায়। কিচ্ছু করার নেই। তবে ও একটা বাইক কিনে ফেলেছে। এরিঙ্কা নির্লিপ্ত, গুড নাইট জানিয়ে চলে যায়। ডা ভালেন। আমস্টারডামের বিখ্যাত রেড লাইট ডিসট্রিক্ট। নেদারল্যান্ডে পা-রাখার প্রথম দিনটাতেই এর সঙ্গে এভাবে মোলাকাত হয়ে যাবে ভাবিনি। হয়তো একেই বলে কাকতলীয়। যে মেলটার অপেক্ষায় ছিলাম, সেটা পাঠানোর কথা মারিসকা মাজুরের। ডা ভালেনে সেক্স ওয়ার্কার হিসেবে ২৬ বছর কাজ করেছেন। এখন একটি অসরকারি সংস্থা চালান। নাম ‘পিক’-প্রসটিটিউট ইনফরমেশন সেন্টার। দেহপোজীবিনীদের দাবিদাওয়া, সুরক্ষার আর সম্মানের প্রশ্নে। দেশ ছাড়ার মুখে সাক্ষাতের সময় চেয়ে মেল করেছিলাম। উত্তর কী এলো, জানতে ল্যাপটপ খুললাম। মারিসকার উত্তর…দিন দশেক পর এক বুধবারের দুপুরে আমাদের কথা হবে, রেড লাইট ডিসট্রিক্ট-এ পিক-এর আপিসে, চা সহযোগে! ***
-আর ইউ জার্নালিস্ট, অর আ ফোটোগ্রাফার? বসার আগে টেবিলের ওপর ক্যামেরাটা রাখায়, মারিসকার সঙ্গে প্রথম বাক্য বিনিময়। এমনিতে আমস্টারডাম সহনশীলতার জন্য বিখ্যাত। সুভেনির শপে কাপ-প্লেট-লাইটারে দেখেছি খোদাই ‘আমস্টারডাম ইজ ইকোয়্যাল টু টলারেন্স। সত্যিই, কেউ কোনও কিচ্ছুটির দিকে দৃকপাত করে না। কিন্তু রেড লাইট ডিসট্রিক এবং তার আশেপাশের এলাকায়, ক্যামেরা হাতে ঘুরলে দেখেছি চোখ মুখের ভাব বদলে যায়। কেন? মারিসকা বুঝিয়ে দিলেন,
-আসলে এখানকার রেডলাইট ডিসট্রিক্ট হল উইন্ডো ব্রথেল। এই বিশ্বের কম জায়গাতেই এইরকম বড়ো মাপের, সাজানো গোছানো, ওপেন ফর অল, উইন্ডো ব্রথেল পাবেন। কাজের জন্য এখানকার মেয়েদের যতোটা সম্ভব এক্সপোজড হয়ে থাকতে হয়। কোন মেয়ে চাইবে, তার অনুমতি না নিয়ে, তাকে কোনও পয়সা নিয়ে, তার প্রায় নগ্ন ছবি গোটা বিশ্বকে দেখাতে? তাই আমরা ক্যামেরাকে বড্ডো সন্দেহের চোখে দেখি। ক্যামেরাম্যানদেরও।
মারিসকা হাসেন। নিজেই উঠে সামোভারে জল গরম করে নিয়ে আসেন। টেবিলে সুগার কিউব আর ক্র্যানবেরি টি ব্যাগস রাখা। স্বচ্ছ পেয়ালায় গরম জল দিয়ে একটি টি-ব্যাগ দেন। বলেন, ‘যখন মনে হবে লিকার হয়ে গিয়েছে, তোমার টি-ব্যাগটাই আমার পেয়ালায় দিয়ে দিও! আই নো ইটস্ অ্যা স্ট্রেঞ্জ ওয়ে টু ট্রিট আ গেস্ট। কিন্তু পছন্দের অতিথিদের আমরা এভাবেই আপন করে নিই।’ আবার হাসেন। খোলা, আন্তরিক হাসি।
চায়ে চুমুক দিতে-দিতে বাইরে তাকাই। ‘পিক’ রেড লাইট ডিসট্রিক্ট-এর একেবারে কেন্দ্রস্থলে। সামনেই একটা কাসল, কান পাতলে গির্জা থেকে গং-এর শব্দ আসে। পাথর বাঁধানো রাস্তায় চলমান আমস্টারডাম। চারশো থেকে আটশো বছরের পুরনো সব বাড়িঘর। বাড়ির নিচে সার দেওয়া কাঁচের দরজা। বাকি হল্যান্ডের গেরস্থ দরজার সঙ্গে ফারাক একটাই, এখানটার পাশে লাল একটা বাতি।
কখনও সেটা জ্বলে, কখনও না। বাড়ির নিচে সার দেওয়া কাঁচের দরজা। বাকি হল্যান্ডের গেরস্থ দরজার সঙ্গে ফারাক একটাই, এখানটার পাশে লাল একটা বাতি। কখনও সেটা জ্বলে, কখনও না। তবুও জায়গাটা যদি ব্রাত্য -স্থল ভাবেন, তবে অঙ্ক পরীক্ষায় গোল্লা। স্থানমাহাত্ম্য বুঝতে হলে বলি, আমস্টারডাম সেন্ট্রাল স্টেশনকে পিছনে রেখে শহরের কেন্দ্রস্থল ড্যাম স্কোয়ারের দিকে একটু হাঁটুন। ড্যাম স্কোয়্যার রাস্তার লাগোয়া বাঁয়ে পড়বে। ডানদিকে রাজার প্রাসাদ, দেশের অন্যতম প্রধান চার্চ আর মাদাম ত্যুসোর মিউজিয়াম। সেদিক পানে না গিয়ে বাঁয়ে আরেটু ঢুকলে দু’টো পরপর ক্যানাল। এবং লাল ডেস্টিনেশন। কলকাতায় ঢুঁ-মারতে হলে ইচ্ছে বা অনিচ্ছেয় আপনাকে যেমন চৌরঙ্গী মাড়াতেই হবে, আমস্টারডামে ‘ডা ভালেন’ তেমনি। আমস্টারডাম সেন্ট্রাল স্টেশনটি হট্টমেলার দেশ।
বার্লিন-ব্রাসেল-প্যারিস সমেত ইউরোপের ক্রসবর্ডার অনেগুলি শহরে যাওয়ার ট্রেন মিলবে এখানে। তেমনই আছে বাস-ট্রাম এবং ফেরি। আরে ডাচরা তো আদতে নাবিক। আর আমস্টারডামের এই বন্দর শহরে জাহাজি আর অভিবাসী মানুষের চাহিদা মেটাতেই নাকি পত্তন হয়েছিলো ডা ভালেনের, যতদূর জানা যায় ১২৭০ সালে। কয়েকশো বছর ওই এলাকায় নাকি বিবাহিত পুরুষ আর যাজকদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। আর এখন? প্রশ্নটা করি মারিসকাকে।
— নেদারল্যান্ডের সব চেয়ে বড়ো টুরিস্ট স্পট এটা। অর্থ রোজগারেরর নিরিখেও। মজাটা হলো, যাঁরা আসেন, অধিকাংশই ফ্যামিলি পারসন, কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে এখানে ঘুরে বেড়ান।
—এই খোলা হাওয়াটা কি প্রসটিটিউসন লিগাল করে দেওয়ার জন্য? টুরিস্ট আর প্রসটিটিউট সকলেরই সুবিধা হয়েছে?— ক্যান আই আস্ক ইউ টু সে সেক্স ওয়ার্কার, র‌্যাদার দ্যান প্রসটিটিউটস। প্লিজ।
কেন এটা আপনারা বোঝেন না, বেশ্যারাও এক একজন কর্মী, আপনি যেমন সাংবাদিক বা আইটি প্রফেসনাল, বা আর্কিটেক্ট, মিউজিশিয়ান, বার অ্যাটেনডেন্ট, সেক্স ওয়ার্কিং অলসো ইজ আ প্রফেশন। আমরা যারা করি, একটা কাজ হিসেবে করি। আপনি যেমন নোট নিচ্ছেন, ঠিক তেমন। অন্য কিছু নয়।

—তাহলে বলছেন, আর্থিক অসঙ্গতি এই পেশায় আসার অন্যতম কারণ নয়? —এই কথাটা সকলেই বলে। এবং এটা একটা বস্তাপচা ধারণা। আসলে আমরা সকলেই কমফোর্ট জোনে থাকতে ভালোবাসি। বেশ্যা দেখলেই মনে-মনে একটা ধারণা করে নিই, আহা ছুঁড়িটার বাপ নেই, খেতে পায় না, তাই এই লাইনে এসেছে। কেন বাপু, ও সেক্স ওয়ার্কার হয়েছে নিজের ইচ্ছেয়, এটা বললে কোন বাইবেলটা অশুদ্ধ হয় শুনি। আপনি দূরদেশ থেকে এসেছেন, কলকাতা তাই বললেন তো, আপনাকে সত্যি কথাটা বলি … আমি ১৬ বছর বয়েসে সেক্স ওয়ার্কিং শুরু করি। হ্যাঁ, ১৬তে। আমার একটা কুকুর কেনার ইচ্ছে ছিল। কেনা হচ্ছিল না। প্রথমে বার-এ কাজ। তারপর কিছুদিন প্রাইভেট কল। এবং এই রেড লাইট ডিসট্রিক্ট। ২৬টা বছর আমার দেহটা কাজে লাগিয়েছি পেশার কারণে। অ্যান্ড দ্যাটস অল। ইটস মাই লাইফ স্টাইল। সেই কুকুর কেনার ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে। আরও অনেক ইচ্ছে পূরণ হয়েছে এই সেক্স ওয়ার্ক থেকে। আমি এখন কাজটা ছেড়েছি। দেখুন লাল আলোটা কিন্তু নেভাইনি। বাড়িতে যদি বলি আমি আবার জামা প্যান্ট খুলে রেখে কাঁচের দরজার পিছনে দাঁড়াব, তাহলে হয়তো আমার মা চমকে উঠবে, কিন্ত্ত আমার মেয়ে বললে আমি আঁতকে উঠব না। কেননা , ব্যাপারটা আমি ওই ভাবে দেখি না।’—আপনি যাই বলুন, এখানে পশ্চিম ইউরোপের যতো মেয়ে কাজ করছেন, তার থেকে পূর্ব ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার গরিব দেশগুলোর মেয়ে অনেক বেশি। অর্থাত্‍‌ টাকা পয়সার ব্যাপারটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

—একটা সত্যি কিন্তু আরেকটা সত্যিকে মিথ্যে প্রমাণ করে না। দেখুন এখানে ২৮০টা উইন্ডো রয়েছে। দু’টো বা তিনটে শিফটে মেয়েরা কাজ করে। পিক টাইমে আটঘণ্টার ঘর ভাড়া ৮০ থেকে ১২০ ইউরো। প্রায় ১২০০ রেজিস্টার্ড সেক্স ওয়ার্কার রয়েছে আমস্টারডামে। প্রতিনিয়ত আরও অনেক মেয়ে আসছে এখানে। কাজ করতে চাইছে। আমরা তাদের একটা ছাতার তলায় আনতে চাইছি। তারা যাতে স্রেফ এই পেশার পরিচয়টাই সামাজিকভাবে দিতে পারে। কেননা, এদের বেশিরভাগই একটা সোশ্যাল লাইফ লিড করে। ছেলে মেয়ে আছে, তাদের স্কুলের ফি আছে, বরের ইনসিওরেন্স দেওয়া আছে। ওই ১২০ ইউরো দৈনিক ঘরের ভাড়া মিটিয়েও তারা এগুলো হেসেখেলে দিতে পারে। তাহলে কেন এটা সামাজিক পরিচয় হবে না বলতে পারেন।
***মারিসকা আরও অনেক কিছু বলেন। উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, নারী স্বাধীনতা, সুরক্ষা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুটা শোনা, জানা, কিছুটা অজানা। কিন্তু সেগুলোতে নতুনত্ব কিছু খুঁজে পাই না। যে পাঠ্যক্রমের জন্য নেদারল্যান্ডে যাওয়া সেখানে আমার এক সতীর্থ ছিলেন। সোমালিয়ার ছোকরা, নাম আবিদি সামাদ। ইতিমধ্যেই ৯ সন্তানের জনক। তাঁর বক্তব্য, দেশে তার পড়শিদের বাড়িতে গড়পরতা ১৫টি করে সন্ততি। ফলে তাকে হেড কাউন্ট বাড়াতে হবে। বউ হামিদা রাজি নয়। তাই সে দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহে আগ্রহী। শুনে ইন্দোনেশিয়ার মিলা (মিলা বড়োই ধর্মপ্রাণ মেয়ে, পাঁচওয়ক্ত নমাজ পড়ে ) কপট রাগে আবিদিকে ৯ সন্তানের নাম না-থেমে বলে যেতে বলে। আবিদি গোটা চারেক বলে আকাশে তাকায়। ভাবি, মারিসকারা আন্দোলন চালাচ্ছেন চালান, কিন্তু হামিদাদের কী হবে? গির্জা থেকে ঘণ্টা ধ্বনি হয়। দূর সোমালিয়ায় হয়তো হামিদা মনে-মনে বলেন, বিসমিল্লা ইর রহমান ইর রহিম …আমস্টারডামে রাত্রি নামে।

রেড লাইট ডিসট্রিক্ট -এর সর্বত্র নজরদারি ক্যামেরা রয়েছে। রয়েছে পুলিশি টহলও। সুতরাং এক্তিয়ার বর্হিভূত কোনও কিছু করার কথা কল্পনাতেও আনা উচিত নয়। বস্ত্তত আমস্টারডামের রেড লাইট ডিস্ট্রিক এই প্রাচীন শহরের অন্যতম পশ এলাকা। বেড় দিয়ে থাকা ক্যানাল রিং তো ইউনেসকো হেরিটেজ সাইট। সোজা কথায় ‘রিচ অ্যান্ড ফেমাস ‘-দের বাসস্থান। শহরটি ‘টলারেন্স ‘-এর জন্য পৃথিবীখ্যাত। তাবলে তার সুযোগ নেওয়ার কথা ভাবলে ঝক্কি হতে পারে। মাথায় রাখুন, কাঁচের দেওয়ালের ওপারে যে-মহিলাটি রয়েছেন তাঁকে পূর্ণমাত্রায় সম্মান জানানো, প্রতিটি পর্যটকের দায়িত্ব।
নেদারল্যান্ডস-এ প্রস্টিটিউসন বৈধ, গে ম্যারেজ বৈধ, আর সেই সঙ্গে হাল্কা মাদকের ব্যবহারও। আমস্টারডামের বিখ্যাত রেড লাইট ডিসট্রিক্ট-এ বেশ কিছু কাফে আছে, যেখানে মারিজুয়ানা বিক্রি হয়। শুধু ‘লাল জেলা’ নয়, নেদারল্যান্ডের অনেক জায়গাতেই এই মাদক-বিপনি, যাকে মজা করে ‘ক্যানাবিস কফিশপ’ বলা হয়, সেখানে অঢেল মাদক পানীয়, মাদক ক্যান্ডি এবং বায়বীয় নেশার জিনিস পাবেন। তবে ব্যবহার করবেন নিজের দায়িত্বে, নইলে লালমোহনবাবুর ভাষায়, ‘পপাত চ অ্যান্ড মমার চ’। ‘ডা ভালেন’-এ একটি নেশা -জাদুঘরও উপস্থিত —‘হ্যাস মারিজুয়ানা অ্যান্ড হেম্প মিউজিয়াম’। ঢুকতেই এক ভারতীয় সন্ন্যাসীয় গঞ্জিকা সেবনের পূর্ণায়ব ছবি আপনার পুলক জাগাবে, হলফ করে বলা যায়।
পর্নো শো সিনেমা থিয়েটারের মতোই জনপ্রিয় আমস্টারডামে। সাকিন এই রেড লাইট ডিসট্রিক্ট। ঘণ্টা দেড়েকে গোটা চারেক শো রয়েছে। টিকিটের দাম ৩৫ থেকে ৫০ ইউরোর মধ্যে। পিক সিজন -এ লম্বা লাইন পড়ে যায়। জনান্তিকে শোনা গেল, কলকাতার মতো এখানে নাকি একটু-আধটু টিকিট ব্ল্যাকও হয়ে থাকে। নিষিদ্ধ আনন্দ নেওয়ার আরও হাতছানি আছে। জুয়ারিদের জন্য ক্যাসিনো, স্ট্রিপ ক্লাব পাব-এ বসে বিয়ার পান, অথবা একেবারে নিখরচায় ‘উইন্ডো (পড়ুন ব্রথেল ) শপিং ‘।
টেক অ্যাওয়ে ইনফো

দেখুন, ঘুরুন, বা আর যা মন চায়… কিন্ত্ত ছবি, নৈব নৈব চ! বাউন্সার আছে, গার্ড আছে, তাঁরা যদি দেখেন আপনি ব্রথেল উইন্ডোর সামনে ছবি তুলছেন, দামী হোক বা অদামী, না কেড়ে নেবে না, ক্যামেরা সমেত আপনার ওপর জল ঢেলে দেবে। তাতে আবার অ্যামোনিয়া মেশানো থাকতে পারে। রগচটা বাউন্সার হলে ক্যামেরা কেড়েও নিতে পারে অবিশ্যি। গুগল সার্চ করলে ‘দা ভালেন’-এর অজস্র ছবি পাবেন। যাঁরা তুলেছেন হয় তাঁরা অনুমতি নিয়ে তুলেছেন, নয়তো বেআইনিভাবে। এমনিতেও সেক্স ওয়ার্কারদের একটা সামাজিক জীবন আছে। ‘কাজের সময়’ তাঁদের ছবি তুলে, বাইরের দুনিয়ায় দেখানোর মধ্যে কোনও বাহাদুরি নেই!
সিনেমা থিয়েটারের মতোই জনপ্রিয় আমস্টারডামে। সাকিন এই রেড লাইট ডিস্ট্রিক। ঘণ্টা দেড়েকে গোটা চারেক শো রয়েছে। টিকিদের দাম ৩৫ থেকে ৫০ ইউরোর মধ্যে। পিক সিজন-এ লম্বা লাইন পড়ে যায়। জনান্তিকে শোনা গেল, কলকাতার মতো এখানে নাকি একটু-আধটু টিকিট ব্ল্যাকও হয়ে থাকে। নিষিদ্ধ আনন্দ নেওয়ার আরও হাতছানি আছে। জুয়ারিদের জন্য ক্যাসিনো, স্ট্রিপ ক্লাব পাব-এ বসে বিয়ার পান, অথবা একেবারে নিখরচায় রেড লাইট সফর করার জন্য ‘উইন্ডো শপিং’।

রেড লাইট ডিস্ট্রিক-এর সর্বত্র নজরদারি ক্যামেরা রয়েছে। রয়েছে পুলিশি টহলও। সুতরাং এক্তিয়ার বর্হিভূত কোনও কিছু করার কথা কল্পনাতেও আনা উচিত নয়। বস্ত্তত আমস্টারডামের রেড লাইট ডিস্ট্রিক এই প্রাচীন শহরের অন্যতম পশ এলাকা। সোজা কথায় ‘রিচ অ্যান্ড ফেমাস’-দের বাসস্থান। শহরটি ‘টলারেন্স’-এর জন্য পৃথিবীখ্যাত। তাবলে তার সুযোগ নেওয়ার কথা ভাবলে ঝক্কি হতে পারে। মাথায় রাখুন, কাঁচের দেওয়ালের ওপারে যে-মহিলাটি রয়েছে তাঁকে পূর্ণমাত্রায় সম্মান জানানো, প্রতিটি পর্যটকের দায়িত্ব।

তথ্য সুত্রঃ কালের কন্ঠ

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পছন্দের আরেকটি লেখা

গাড়ি চালিয়ে আসেন ভিক্ষা করতে, মাসে উপার্জন ১ লাখ

উপার্জন বাড়ানোর জন্য সবাই যখন চেষ্টা হচ্ছে‚ নিত্যনতুন উপায় বের করছেন, তখন ভিখারিই বা পিছিয়ে …