Home / ফেসবুক থেকে / কিভাবে বুঝবেন প্রেমে প্রতারিত হচ্ছেন? (মেয়েদের জন্যে)

কিভাবে বুঝবেন প্রেমে প্রতারিত হচ্ছেন? (মেয়েদের জন্যে)

images

শিরোনাম দেখে ভড়কে যাবেন না প্লিজ! আমি পুলিশ থেকে লাভগুরু হয়ে যাইনি, আমার এই পোস্ট শুধুমাত্র প্রফেশনাল প্রতারকদের চেনার উপায় নিয়ে লেখা।
মোটামুটি শ খানেক কেইস ডিল করার অভিজ্ঞতার আলোকে এই লেখাটি। আশা করি এটি আপনাকে ইমোশন নামক চিনির সিরাপের নেশার বাইরে এনে বাস্তবের তিতা করলার প্রয়োজনীয় ভিটামিন দেবে।
মাত্র তিনটা অক্ষরের একটা শব্দ মনে রাখুন ‌’টাশকি’। এই টাশকি মেথড ব্যবহার করে আপনি প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।
১. টা মানে টাকা। আপনার সাথে আপনার প্রেমিকের যখন প্রেম ভালবাসা তুঙ্গে। ঠিক তখনই যদি সে ‘জান, আমার ভ্যাসেকটমি করা আছে, ওইটা রিভার্স করতে টাকা লাগবে, প্লিজ প্লিজ প্লিজ কিছু টাকা দাও না!’ টাইপের রিকোয়েস্ট করে, বুঝবেন ঘাপলা থাকার সম্ভাবনা নিরানব্বই পারসেন্ট। অজুহাতটা মায়ের অসুখ থেকে মাস্তানের হুমকি পর্যন্ত যেকোনো কিছু হতে পারে। সত্যিকারের প্রেম আর টাকা, অন্তত বিয়ের আগে এই দুটো জিনিস একসাথে যেতে আমি দেখিনি।
প্রেমিক টাকা চাইলে দিতে নিষেধ করছিনা, তবে ভেরিফাই করুন। ‘তব চিত্তে মম প্রতি আস্থা নাহি কেন’ -টাইপের রাবীন্দ্রিক কথাবার্তায় পাত্তা দিয়েছেন কি ধরা খেয়েছেন!
২. শ তে শুরু। আপনার সাথে আপনার প্রেমিকের ‘পিলু পিলু’ (মিলিটারি একাডেমিতে আমি কিছুদিন ছিলাম, প্রেমের এই ফাটাফাটি প্রতিশব্দটি ওদের কাছ থেকে নিয়েছি) শুরু হলো কিভাবে একেবারে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন। একটা উদাহরণ দিই-
প্রতারিত এক মহিলা আমাকে জানিয়েছেন, তাকে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে এক ভদ্রলোক জানায় যে, উনার নম্বরের সাথে মিল থাকায় একটা কুরিয়ার ভুলে সেই ঠিকানায় চলে গেছে। ভদ্রলোক নিজেকে এয়ার ফোর্স কর্মকর্তা পরিচয় দেন (বিয়ের বাজারে আমার আর্মি/নেভি/এয়ারফোর্স বন্ধুদের সেই লেভেলের ডিমান্ড থাকায় প্রতারকদের কাছে এইটা খুব জনপ্রিয়)। ভদ্রমহিলা সেটা শুনে গলে যান। প্রেম জমে পুরো ক্ষীর হয়ে ওঠে। বেশ কয়েক বার টাকাও দেন তিনি। শেষে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে ওই ভদ্রলোকের ঠিকানায় গিয়ে দেখেন চিড়িয়া উড়গিয়া!
বহু শিক্ষিত, পেশাজীবী (ডাক্তার, আইনজীবী ইত্যাদি) মেয়েদেরও এরকম ধরা খাবার উদাহরণ আছে। কাজেই, এরকম সিনেমা মার্কা শুরু যদি হয়ে থাকে, ডাবল/ট্রিপল চেক করুন। ইউনিফর্ম পরা ছবি বা স্কাইপেতেও ভুলবেন না, ওগুলো আজকাল খুব কমন!
৩. কি তে কিচ্ছা। প্রেমিকের কিচ্ছা কাহিনী যত লম্বা চওড়া হবে, তার ফ্রড হবার সম্ভাবনা তত বেশি। প্রধানমন্ত্রীর চিফ সিকিউরিটি অফিসার পরিচয় দিয়ে ডজন খানেক ডাক্তার মেয়ের কাছ থেকে প্রেমের অভিনয় করে লাখ দশেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক কম্পিউটার অপারেটর। এই কাহিনী আমার এলাকাতেই ঘটেছে। ‘ওয়াও, আমার জানুটা কত্ত ড্যাশিং’ এই ভেবে আইসক্রিমের মতো গলে যাবার আগে দয়া করে মাথাটা একটু খাটান প্লিজ! ফেসবুকের যুগে কারো নাড়ি নক্ষত্র বের করা জাস্ট পাঁচ মিনিটের কাজ!
আশা করি আপনারা সবাই ‘টাশকি’ মেথড ব্যবহার করে লাইফে টাশকি খাওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।
বি: দ্র: মেয়েদের দ্বারা ছেলেদের চিট হবার বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা নেই, এধরণের কেস আনুপাতিক হারে খুবই কম। কাজেই এ নিয়ে আমার কাছে জানতে চেয়ে লজ্জা দেবেন না। কমন সেন্স থাকলে ছেলে বা মেয়ে কারো কাছেই ঠকবেন না। সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা!

লেখক : বর্তমানে জাপানে উচ্চশিক্ষারত

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য