Home / মজা ও কৌতুক / ফেসবুক যদি বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হতো

ফেসবুক যদি বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হতো

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুক যদি বাংলাদেশ সরকারের কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হতো তাহলে অবশ্যই যে ঘটনাগুলো ঘটত তা একটু কল্পনা করে নিই। লেখা ফখরুল ইসলাম, আঁকা : মানব

2_191302

১. ডোমেইন নেম : ফেসবুকের বর্তমান ডোমেইন নেম www. facebook.com। ফেসবুক যদি বাংলাদেশ সরকারের অধীনে থাকত, তাহলে এর বর্তমান ডোমেইন নেমের পরিবর্তে আপনাকে ক্লিক করতে হতো www.facebook.gov.bd এই অ্যাড্রেসে।

২. পরিচালনা : ফেসবুক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হতো যুব ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পদাধিকারবলে ফেসবুকের মহাপরিচালক (সিইও না) হিসেবে কাজ করতেন। ফেসবুক কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শেখার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশব্যাপী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করত।

৩. হেড অফিস : স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকের হেড অফিস হতো বাংলাদেশ সচিবালয়ে। সেখানে ফেসবুকের জন্য দুটি কামরা বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে সার্ভার রাখার জন্য কারওয়ান বাজার কিংবা চানখাঁরপুলে জমি কিনে ভবন বানানো হতো। এই জমি কিনতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্নীতি তদন্তে নামত দুদক।

৪. সার্ভার ক্রয় : ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লাখ লাখ ছবি, ভিডিও ও গান রাখার জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার সার্ভার। ফেসবুক যদি বাংলাদেশ সরকারের হাতে থাকত তাহলে তারা গুটিকয়েক মান্ধাতার আমলের পুরনো সার্ভার দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করত। ফলে ছবি কিংবা ভিডিও আপলোডে সমস্যায় পড়তেন ব্যবহারকারীরা। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করতেন। জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কুইক রেন্টাল সার্ভার দিয়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হতো।

৫. অ্যাকাউন্ট খোলা : ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন হতো দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত), নমিনির ছবি (অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি কর্তৃক সত্যায়িত), জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্টের ফটোকপি, সোনালী ব্যাংক দামুড়হুদা শাখা থেকে মহাপরিচালক-ফেসবুক বরাবর ২৫০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার ১০ কর্মদিবস পর পাওয়া যেত ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড।

৬. ফুটপাতে উৎপাত : ফেসবুকের হেড অফিসের সামনে থাকত দালাল শ্রেণির লোকজন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রধান হতেন ফেসবুক মহাপরিচালকের শালা কিংবা ভায়রা। দালালরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দক্ষিণার বিনিময়ে এক দিনের মধ্যে নতুন ব্যবহারকারীকে ফেসবুক ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড বের করে দিত।

৭. কঠোর আইন : ফেসবুকে ফেক আইডিধারীদের প্রতিরোধে কঠোর আইন করত সরকার। অপরাধীদের দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হতো। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারত।

৮. ভোগান্তি : ব্যান্ডউইথ কম থাকায় ফেসবুকের হোম পেজে ঢোকা হতো বিরাট কষ্টকর ব্যাপার। ইউআরএলে অ্যাড্রেস লিখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো হোম পেজের জন্য। যদিও বা কেউ ঢুকতে পারত তাহলে দেখত এর প্রোফাইলে ওর ছবি, ওর প্রোফাইলে তার ছবি বসিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ছবিসংক্রান্ত এ জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন ফেসবুক দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হতো।

৯. অর্থ সংগ্রহ : পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি ছবি আপলোডের জন্য এক টাকা, প্রতিটি স্টেটাসের জন্য ৫০ পয়সা ও প্রতীকী কমেন্টসের জন্য ২৫ পয়সা হারে কর্তন করে ওই অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হতো। বর্ণিত সব অর্থের সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো।

১০. নির্বাচন : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলেই হয়তো ফেসবুকের মহাপরিচালক সবার মধ্যে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে যেতেন। ফলে তার মধ্যে আবির্ভাব হতো দেশপ্রেম করার বাসনা। ইতিমধ্যে দুর্নীতি করে ভালো পয়সা কামিয়েছেন তিনি। তাই দেরি না করে চানখাঁরপুল আসন থেকে এমপি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যেতেন।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য