মূল পাতা / সমস্যা ও পরামর্শ / কেন নষ্ট হচ্ছে কিশোর কিশোরীদের রাতের ঘুম?

কেন নষ্ট হচ্ছে কিশোর কিশোরীদের রাতের ঘুম?

এবার একটি জরিপে উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে কিশোর কিশোরীদের রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে! হ্যাঁ, এসোকেম নামে ভারতীয় একটি সংস্থা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী ভারতীয় টিনএজদের উপর একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন গড়ে ১২৫ টির মত মেসেজ চেক করে এবং দিনের পর দিন এর পরিমান বেড়েই চলেছে।

দিল্লির ১৭ বছর বয়সী গুঞ্জন জৈন নামে এক তরুন ব্যবহারকারী বলেন, তিনি মধ্যরাত বা তার বেশী সময় ধরে মেসেজ লেনদেন করেন। রাতের সময়টা বেছে নেওয়ার কারন হলো তিনি এবং তার বন্ধুরা দিনে লেখাপড়া, খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। নিমিশা কুমার ১৮ বছর বয়সী আরেকজন বলেন, মধ্যরাত পর্যন্ত মেসেজিং করতে পছন্দ করেন। কিশোর কিশোরীরা রাত জাগার কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসআ্যপের মত সাইট ও মেসেজিং অ্যাপগুলো। জরিপে জানা গেছে,  কিশোর কিশোরীরা যে শুধু রাতকেই বেছে নেয় তা নয়, খাওয়ার সময় এমনকি লেখাপড়ার সময়ও তারা সাইটগুলো ব্যবহার করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জেগে যেকোন কাজ করাই স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুকিপূর্ণ। যেহেতু সকালে উঠে স্কুল বা কলেজে যেতে হয়, সেহেতু কিশোর কিশোরীরা ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট সময় পায় না। ফলে একদিকে লেখাপড়ার উপর যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তেমনি অপরদিকে স্বাস্থের অবনতি ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একজন কিশোর বয়সীর ৮ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানোর দরকার। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমাতে পারেনা এই সামাজিক সাইটগুলো ব্যবহারের কারনে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, অভিভাবকেরাই এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখতে পারেন তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানদের সচেতন করা তো দুরে থাক, অভিভাবকেরা নিজেরাও এ বিষয়ে সচেতন নন। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী ।

জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিভাগ কিশোর কিশোরী জানিয়েছেন, তারা রাত ১টা অবধি তারা তাদের স্কুল কলেজের বন্ধু ও ভাই-বোনদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ সাইটে কথা বলে কিংবা চ্যাট করে। ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপসগুলোতে তারা নিজেদের কিংবা বিভিন্ন ধরনে ছবি শেয়ার করে ও ইউটিউবে বিভিন্ন গান শুনতে একে অপরকে অনুরোধ করে যা তারা নিজেরাও শুনে। সমগ্র ভারত জুড়ে কিশোর কিশোরীরা রাত জেগে এই সাইটগুলো ব্যবহার করছে। মূলত সাইটগুলো চালু করা হয়েছিল যেন, এগুলো ব্যবহার করে প্রিয়জনদের সাথে দুরত্ব কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এটি অনেকের জন্য এখন মারাত্নক নেশায় পরিনত হয়েছে।

বাংলাদেশেও এখন ভারতের মতো একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে কিশোর কিশোরীদের ঘিরে। যা আরও বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার পূর্বেই এর লাগাম টেনে ধরা অভিভাবকদের যেমন কর্তব্য তেমনি সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করা।

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পছন্দের আরেকটি লেখা

জীবনে সুখী হতে চাইলে টিনএজ বয়সের স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতা মেনে নেয়া উচিত

ভবিষ্যত জীবন নিয়ে সকলেই অনেক স্বপ্ন সাজিয়ে থাকেন। বিশেষ করে মেয়েরা নিজেদের কিশোরী বয়সে যখন …

7 মন্তব্য

  1. অভিভাবকরা সচেতন না হলে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়া যাবেনা।

  2. প্রতিটি মা বাবাই পারে তাদের ছেলে মেয়ে সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  3. অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  4. বর্তমানে ফেসবুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে । একমাত্র মা বাবাই পারে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে ।

  5. বাবা মা হচ্ছে সন্তানদের প্রথম শিক্ষক ।মা বাবাই পারে তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  6. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে শুধু রাতের ঘুম নষ্ট করেনা পাশাপাশি লেখাপড়া,খাবার, ইত্যাদি জীবনের আনেক কিছুই নষ্ট করে।

  7. ঈদানীং বাংলাদেশে একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে কিশোর কিশোরীদের ঘিরে। যা আরও বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।এর জন্য অভিভাবকদের যেমন কর্তব্য তেমনি সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত এ বিষয়ে খুবই সচেতনতা তৈরী করা।