Home / সমস্যা ও পরামর্শ / কিশোর কিশোরীদের রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে যে কারনে

কিশোর কিশোরীদের রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে যে কারনে

কিছুদিন পূর্বে ভারতীয় টিনএজদের উপর একটি জরিপ চালায় এসোকেম নামে ভারতীয় একটি সংস্থা। জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিভাগ কিশোর কিশোরী জানিয়েছেন, তারা রাত ১টা অবধি তাদের স্কুল কলেজের বন্ধু ও ভাই-বোনদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ সাইটে কথা বলে কিংবা চ্যাট করে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপসগুলোতে তারা নিজেদের কিংবা বিভিন্ন ধরনের ছবি শেয়ার করে। এছাড়াও ইউটিউবে বিভিন্ন গান শুনে, নাটক বা মুভি দেখে। সমগ্র ভারত জুড়ে এমনকি বাংলাদেশের কিশোর কিশোরীরাও রাত জেগে এই সাইটগুলো ব্যবহার করছে। মূলত  প্রিয়জনদের সাথে দুরত্ব কমিয়ে আনার জন্য এ সাইটগুলো চালু করা হয়েছিল যেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এটি এখন মারাত্মক নেশায় পরিনত হয়েছে।

 

দিল্লির ১৮ বছর বয়সী সৌরভ সাহা নামে এক তরুন ব্যবহারকারী বলেন, তিনি মধ্যরাত বা তার বেশী সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় বেশি দেন এবং মেসেজ লেনদেন করেন। রাতের সময়টা বেছে নেওয়ার কারন হলো তিনি সারাদিন  খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। নিশিথা দাশ নামের ১৭ বছর বয়সী আরেকজন কিশোরী বলেন, মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি অনলাইনে গেমস খেলা এবং মেসেজিং করতে পছন্দ করেন। কিশোর কিশোরীদের রাত জাগার কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক,ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসআ্যপের মত সাইট ও মেসেজিং অ্যাপগুলো। এছাড়াও নতুনভাবে যোগ হয়েছে টিকটক এবং লাইকির মতো বিনোদনমূলক এপস, যেখানে কিশোর কিশোরীরা মারাত্মকভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে। জরিপে জানা গেছে, কিশোর কিশোরীরা যে শুধু রাতেই নয়, খাওয়ার সময় এমনকি লেখাপড়ার সময়ও তারা সাইটগুলো ব্যবহার করছে।

কিশোর কিশোরীরা যেভাবে এইসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে তাতে একমাত্র অভিভাবকেরাই এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখতে পারেন তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অভিভাবকেরা নিজেরাও এ বিষয়ে সচেতন নন। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জেগে যেকোনো কাজ করাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু সকালে উঠে কিশোর কিশোরীদের স্কুল বা কলেজে যেতে হয়, সেহেতু তারা ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট সময় পায় না। ফলে একদিকে যেমন লেখাপড়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তেমনি অপরদিকে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একজন কিশোর বয়সীর ছেলেমেয়ের ৮ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানোর দরকার। কিন্তু এই সামাজিক সাইটগুলো ব্যবহারের কারনে তারা পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমাতে পারেনা।

এসোকেম-এর জরীপে দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন গড়ে ১২৫ টির মত মেসেজ আদান প্রদান করে এবং দিনের পর দিন এর পরিমান বেড়েই চলেছে। এখন বাংলাদেশের কিশোর কিশোরীদের ঘিরে ভারতের মতো একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। যা আরও মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার পূর্বেই এর লাগাম টেনে ধরা অভিভাবকদের যেমন কর্তব্য তেমনি সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করা।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

7 comments

  1. অভিভাবকরা সচেতন না হলে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়া যাবেনা।

  2. প্রতিটি মা বাবাই পারে তাদের ছেলে মেয়ে সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  3. অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  4. বর্তমানে ফেসবুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে । একমাত্র মা বাবাই পারে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে ।

  5. বাবা মা হচ্ছে সন্তানদের প্রথম শিক্ষক ।মা বাবাই পারে তাদের সন্তানদের সচেতন করে তুলতে।

  6. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে শুধু রাতের ঘুম নষ্ট করেনা পাশাপাশি লেখাপড়া,খাবার, ইত্যাদি জীবনের আনেক কিছুই নষ্ট করে।

  7. ঈদানীং বাংলাদেশে একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে কিশোর কিশোরীদের ঘিরে। যা আরও বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।এর জন্য অভিভাবকদের যেমন কর্তব্য তেমনি সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত এ বিষয়ে খুবই সচেতনতা তৈরী করা।