মূল পাতা / স্বাস্থ্য / বিনা কষ্টে ওজন ও মেদ কমান, সাথে বৃদ্ধি করুন শারীরিক ক্ষমতা

বিনা কষ্টে ওজন ও মেদ কমান, সাথে বৃদ্ধি করুন শারীরিক ক্ষমতা

kacha-solaনিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কে না চায়। তার জন্য দুই হাতে টাকা খরচ করতেও দ্বিধা বোধ করেন না অনেকে। ওজন একটু বেড়ে গেলেই মাথায় হাত পড়ে! হায়, একি হলো? ওজন বেড়ে গেলেই কমে যায় সকল প্রকার শারীরিক কর্মক্ষমতা এমনকি যৌন শক্তিও। তারপর জিমে ছুটাছুটি, রোজ সকালে শুরু হয় হাঁটা আর খাবার তালিকায় কাটছাট। কিন্তু অনেকেরই হয়ত জানা নেই, ঘরেই আপনি পেতে পারেন এর সমাধান।

ছোলা সবার কাছেই বেশ পরিচিত। কিন্তু জানেন কি এই ছোলাই ওজন কমাতে বেশ উপকারি? এতে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, আয়রন, ফসফরাস্, জিঙ্ক, পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬, থায়ামিন এবং ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার আমাদের পাকস্থলি ভর্তি রাখতে সাহায্য করে এবং খিদে কমিয়ে দেয়।

একটু খেয়াল করে দেখুন, ঘোড়ার প্রধান খাবার হলো ছোলার ভুসি। ছোলার ভুসি খাওয়ার ফলে ঘোড়ার কর্মক্ষমতা অনেক বেশি। ঘোড়া অনেক দৌড়াতে পারে সেই সাথে ঘোড়ার যৌন শক্তিও মারাত্নক। যেহেতু ছোলার চাইতে ছোলার ভুসি’র মূল্য কম তাই ঘোড়াকে ভুসি খাওয়ানো হয়।

ছোলা কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। তবে কাঁচা ছোলার ক্ষমতা রান্না ছোলার চেয়ে বেশি। কারণ পানিতে ভেজানো ছোলায় ভিটামিন বি-এর পরিমাণ বেশি থাকে। ভিটামিন বি বেরিবেরি রোগ, মস্তিষ্কের গোলযোগ, হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ছোলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। আরেকটি বিষয়, ছোলা খেতে হবে অবশ্যই ছোলার খোসা সহ। কেউ কেউ খোসা ফেলে দেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। খোসাতেই যত বেশি উপকারিতা।

এতে ফ্যাটের পরিমানও খুবই কম থাকে এবং খুব কম ক্যালরি থাকে। প্রচুর পরিমানের ফাইবার থাকার জন্য শরীরে জমে থাকা ক্যালরিও বের করে দিতে সাহায্য করে।

ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। ছোলায় আমিষের পরিমাণ মাংস বা মাছের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্য তালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংস আর চাই কী! বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও পুষ্টিগুনের বিচারে, আমাদের দেশের মত গরীব দেশে ছোলাকে মাছ বা মাংসের বিকল্প হিসাবেও ভাবা যেতে পারে। ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না। বেশ সময় নেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগই পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।

প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়াও আছে ভিটামিন ব্লি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। এ সবই শরীরের জন্য কাজে লাগে। ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠ কাঠিন্যে উপকারী। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে। এতে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়। পায়খানা করা সহজ হয়। নিয়মিত পায়খানা হয়ে যায় বলে ক্ষতিকর জীবাণু খাদ্যনালীতে থাকতে পারে না। ফলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমে। রক্তের চর্বি কমাতেও সহায়ক খাদ্যের আঁশ। আরও নানান শারীরিক উপকার আছে খাদ্য-আঁশে। দেরীতে হজম হয়, এরূপ একটি খাবার হচ্ছে ছোলা। শরীরে শক্তির যোগান দিতে থাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলা থেকে পাওয়া যায় ৩৬০ ক্যালরিরও অধিক শক্তি।

জিম করে বা অন্য কিছু করে পয়সা বা সময় নষ্ট না করে চাইলে, প্রতিদিন নিয়ম করেই ৫০গ্রাম অথবা সম্ভব হলে ১০০গ্রাম ছোলা পানিতে ভিজিয়ে কাঁচা খেতে থাকুন, কিছুদিন পর নিজেই নিজের পরিবর্তনে অবাক হযে যাবেন। আপনি হয়ে যাবেন সতেজ, টাইট-ফিট ও আকর্ষণীয় গড়ন এবং অনেক বেশি কর্মক্ষম।

বাংলা উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পছন্দের আরেকটি লেখা

আলু খাওয়ার ৬ উপকারিতা

আমরা প্রায় প্রতিদিন অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি আলু খেয়ে থাকি। এই আলুর পুষ্টিগুণ অনেক। আলুতে ভিটামিন …