Home / স্বাস্থ্য / শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন কমানোর সহজ উপায়

শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন কমানোর সহজ উপায়

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিই হলো সকলের সামনে নিজেকে আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপন করা। নিজের শারীরিক গঠন আকর্ষনীয় করতে তুলতে মানুষ কমবেশী সকলেরই চেষ্টা থাকে। এর জন্য কেউ কেউ দু’হাত ভরে টাকা-পয়সা খরচ করতেও দ্বিধা করে না। চেহারা একটু কালো হয়ে গেলে, ওজন কিছুটা বেড়ে গেলে, পেট একটু উচুঁ হয়ে গেলে, অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। আর ওজন বেড়ে গেলে মানুষের সকল প্রকার শারীরিক কর্মক্ষমতা সহ যৌনক্ষমতাও হ্রাস পায়! অনেকে ছুটে যায় জিমে, কেউ কেউ সকালে শুরু করে হাটাহাটি। কেউ কেউ খাওয়-দাওয়া কমিয়ে দেয়। শুরু হয় ডায়টের নামে খাবারের সাথে বিশাল রণকৌশল। কিন্তু যদি জানা থাকে তাহলে নিজ ঘরে সহজেই করে নিতে পারেন এর সমাধান। আজ এই সহজ সমাধানের কৌশল নিয়েই কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব।

আমাদের দেশে সহজলভ্য ও অতি পরিচিত একটি শস্যের নাম ছোলা। কিন্তু ক’জনই জানে এই ছোলার বিভিন্ন রকমের উপকারীতা? এই ছোলাতে রয়েছে, প্রচুর আয়রন, থায়ামিন, ফসফরাস্, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন এবং ফাইবার। এই ফাইবার মানুষ কিংবা যেকোন শস্যভোজী প্রানীর পাকস্থলি ভর্তি রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। পক্ষান্তরে আয়রন ও অন্যান্য উপাদানসমূহ শক্তি যোগায়। ফলে নিয়মিত খাবার কম খেলেও পেট ভর্তি থাকে ও শরীরে শক্তি অটুট থাকে।

আমাদের গ্রহপালিত প্রাণী ঘোড়ার কাছ থেকে আমরা এ ব্যাপারে শিখতে পারি। একটু খেয়াল করে দেখুন, ঘোড়ার প্রধান খাবার হলো ছোলার ভুসি। যেহেতু ছোলার চাইতে ছোলার ভুসি’র মূল্য কম তাই ঘোড়ার মালিকেরা তার ঘোড়াকে সাধারণত সরাসরি ছোলা না খাইয়ে, ছোলার ভুসি খাওয়ায়। মনে রাখতে হবে, ছোলার ভিতরের দানা’র চাইতে ছোলার বাহিরের আবরণ বা ছোলার ভুসি’তে গুনাগুন বেশি। ছোলার ভুসি খাওয়ার ফলে ঘোড়ার কর্মক্ষমতা অনেক বেশি। ঘোড়া অনেক দৌড়াতে পারে সেই সাথে ঘোড়ার যৌন শক্তিও হয় মারাত্নক।

ছোলা কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। তবে কাঁচা ছোলার ক্ষমতা রান্না ছোলার চেয়ে বেশি। কারণ পানিতে ভেজানো ছোলায় ভিটামিন বি-এর পরিমাণ বেশি থাকে। ভিটামিন বি বেরিবেরি রোগ, মস্তিষ্কের গোলযোগ, হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ছোলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। আরেকটি বিষয়, ছোলা খেতে হবে অবশ্যই ছোলার খোসা সহ। কেউ কেউ খোসা ফেলে দেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। খোসাতেই যত বেশি উপকারিতা।

এতে ফ্যাটের পরিমানও খুবই কম থাকে এবং খুব কম ক্যালরি থাকে। প্রচুর পরিমানের ফাইবার থাকার জন্য শরীরে জমে থাকা ক্যালরিও বের করে দিতে সাহায্য করে।

ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। ছোলায় আমিষের পরিমাণ মাংস বা মাছের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্য তালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংস আর চাই কী! বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও পুষ্টিগুনের বিচারে, আমাদের দেশের মত গরীব দেশে ছোলাকে মাছ বা মাংসের বিকল্প হিসাবেও ভাবা যেতে পারে। ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না। বেশ সময় নেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগই পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।

প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়াও আছে ভিটামিন ব্লি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। এ সবই শরীরের জন্য কাজে লাগে। ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠ কাঠিন্যে উপকারী। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে। এতে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়। পায়খানা করা সহজ হয়। নিয়মিত পায়খানা হয়ে যায় বলে ক্ষতিকর জীবাণু খাদ্যনালীতে থাকতে পারে না। ফলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমে। রক্তের চর্বি কমাতেও সহায়ক খাদ্যের আঁশ। আরও নানান শারীরিক উপকার আছে খাদ্য-আঁশে। দেরীতে হজম হয়, এরূপ একটি খাবার হচ্ছে ছোলা। শরীরে শক্তির যোগান দিতে থাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলা থেকে পাওয়া যায় ৩৬০ ক্যালরিরও অধিক শক্তি।

জিম করে বা অন্য কিছু করে পয়সা বা সময় নষ্ট না করে চাইলে, প্রতিদিন নিয়ম করেই ৫০গ্রাম অথবা সম্ভব হলে ১০০গ্রাম ছোলা পানিতে ভিজিয়ে কাঁচা খেতে থাকুন, কিছুদিন পর নিজেই নিজের পরিবর্তনে অবাক হযে যাবেন। আপনি হয়ে যাবেন সতেজ, টাইট-ফিট ও আকর্ষণীয় গড়ন এবং অনেক বেশি কর্মক্ষম।

বাংলা উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য